আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও ভ্রাতৃত্ব রক্ষায় তেহরানের নতুন কূটনৈতিক মাইলফলক
মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার মেঘ কাটিয়ে সম্প্রীতির নতুন বার্তা নিয়ে বিশ্ববাসীর সামনে হাজির হয়েছে ইরান। প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর সাথে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা এবং অহেতুক সংঘাত এড়ানোর দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে একটি বিশেষ ঘোষণা দিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। শনিবার (৭ মার্চ) তেহরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রচারিত এক ভিডিও বার্তায় তিনি অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় জানান যে প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণের কোনো অভিপ্রায় ইরানের নেই। তিনি অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে উল্লেখ করেন যে ইরানকে আক্রান্ত করা না হলে ভবিষ্যতেও কোনো প্রতিবেশী রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে হামলার পথে হাঁটবে না তেহরান।
সাম্প্রতিক অনাকাঙ্ক্ষিত উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে প্রতিবেশী দেশগুলোর যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তার জন্য ইরানের রাষ্ট্রপ্রধান আনুষ্ঠানিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছেন যা আন্তর্জাতিক মহলে এক ইতিবাচক ও দায়িত্বশীল কূটনীতির বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের ভাষ্যমতে কোনো রাষ্ট্র যদি ইরানের সার্বভৌমত্বে আঘাত না হানে তবে ইরানও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের জায়গা থেকে শান্তিকামী অবস্থান বজায় রাখবে। তবে একই সাথে তিনি সতর্কবার্তাও প্রদান করেছেন যে এই সহনশীল অবস্থাকে কেউ যেন দুর্বলতা হিসেবে বিবেচনা না করে কারণ বহিঃশক্তির ইন্ধনে কোনো ধরনের সংঘাত আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে চরম সংকটের মুখে ঠেলে দিতে পারে।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে ইরানের এই নমনীয় অথচ নীতিগত অবস্থান বর্তমান বিশ্বের জ্বালানি নিরাপত্তা ও বিশ্বরাজনীতির অস্থিরতা প্রশমনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। কোনো পরাশক্তির আশ্রয়ে থেকে প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সাথে সংঘাতে জড়ানো যে দেশীয় স্বাধীনতা ও মর্যাদার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় সেই সত্যটিও তিনি তার বক্তব্যে অত্যন্ত জোরালোভাবে তুলে ধরেছেন। এটি স্পষ্ট যে ইরান এখন সামরিক শক্তির চেয়ে কূটনৈতিক সংলাপের মাধ্যমেই আঞ্চলিক সমস্যা সমাধানে বেশি আগ্রহী।
শান্তি ও সহাবস্থানের এই আহ্বান কেবল একটি রাষ্ট্রীয় নীতি নয় বরং এটি বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে মানবতার এক পরম আর্তি। যুদ্ধের দামামা যখন মানুষের বিবেককে স্তব্ধ করে দেয় ঠিক তখনই শান্তির এই সুবাস আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে শক্তির চেয়ে সহমর্মিতাই মানুষের শ্রেষ্ঠ পরিচয়। ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে জয়গান গাওয়ার চেয়ে একে অপরের হাত ধরে এগিয়ে যাওয়াই হলো প্রকৃত মানবতা কারণ দিনশেষে অস্ত্রের আস্ফালন থেমে গেলেও ভালোবাসার সুদৃঢ় বন্ধন পৃথিবীর প্রতিটি মানুষের ভবিষ্যৎকে নিরাপদ ও সুন্দর করে তোলে।