মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির নতুন বার্তা ও আরব প্রতিবেশীদের প্রতি তেহরানের নমনীয় অবস্থান
বিশ্ব রাজনীতির উত্তপ্ত প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা রক্ষায় এক অভাবনীয় কূটনৈতিক মোড় নিয়েছে ইরান। প্রতিবেশী আরব রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে বিদ্যমান উত্তেজনা প্রশমনে দেশটির সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে শান্তি ও সংযমের এক বলিষ্ঠ বার্তা প্রদান করা হয়েছে। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান অত্যন্ত স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে যদি কোনো প্রকার উস্কানি বা আক্রমণ না আসে তবে ইরান সেসব রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণ করবে না। শনিবার (৭ মার্চ) দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক বিশেষ ভাষণে তিনি এই নীতিগত অবস্থানের কথা বিশ্ববাসীকে জানান যা বর্তমান আঞ্চলিক অস্থিরতা নিরসনে এক নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে।
প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান তার ভাষণে পূর্ববর্তী সামরিক পদক্ষেপের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর সরকার ও জনগণের প্রতি গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান যে ৬ মার্চ অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের অন্তর্বর্তী নেতৃত্ব পরিষদের বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে এখন থেকে প্রতিবেশী দেশগুলোর বিরুদ্ধে নতুন করে কোনো হামলা চালানো হবে না। তবে রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তিনি এই হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন যে ইরানের ওপর কোনো দিক থেকে আঘাত এলে আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগে তারা বিন্দুমাত্র দ্বিধা করবে না। তিনি অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে উল্লেখ করেন যে ইরানি জাতিকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করার যে কোনো পরিকল্পনা কেবল অলীক স্বপ্ন হিসেবেই রয়ে যাবে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ভয়াবহ সংঘাতের ধারায় মার্কিন ও ইসরাইলি বাহিনীর যৌথ অভিযানে রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন কৌশলগত স্থানে হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করেছিল। ওই আকস্মিক হামলায় দেশটির শীর্ষস্থানীয় নেতৃত্বের অপূরণীয় ক্ষতি হয় বলে জানা যায় যার প্রতিক্রিয়ায় ইরানও ইসরাইল ও মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুগুলোতে পাল্টা অভিযান চালায়। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে এই পাল্টাপাল্টি হামলার প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক অর্থনীতি যখন এক অনিশ্চিত গন্তব্যের দিকে ধাবিত হচ্ছিল ঠিক সেই মুহূর্তে ইরানের এই নমনীয় অবস্থান বিশ্ব কূটনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করছে।
সময়ের এই ক্রান্তিলগ্নে দাঁড়িয়ে এটি প্রতীয়মান হয় যে অস্ত্রের ঝনঝনানি কখনোই দীর্ঘমেয়াদী সমাধান আনতে পারে না। যুদ্ধের লেলিহান শিখা যখন সীমান্ত পেরিয়ে সাধারণ মানুষের জীবন ও ভবিষ্যৎকে গ্রাস করতে চায় তখন শান্তি ও সংলাপই হয়ে ওঠে একমাত্র মুক্তির পথ। পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ আর সহমর্মিতার সেতুবন্ধনই পারে ধ্বংসের প্রান্ত থেকে মানবতাকে রক্ষা করতে কারণ দিনশেষে জয়-পরাজয়ের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো পৃথিবীর প্রতিটি প্রান্তে মানুষের নিরাপদ ও শান্তিময় বসবাস নিশ্চিত করা। এভাবেই ভ্রাতৃত্বের হাত বাড়িয়ে দিয়ে আমরা একটি সুন্দর ও নিরাপদ বিশ্ব গড়ার স্বপ্ন পূরণ করতে পারি।