যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের আগ্রাসন রুখতে ৬৬০ সুন্নি ধর্মীয় নেতার ঐক্যবদ্ধ জিহাদের ডাক
ইরানের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় সিস্তান ও বেলুচিস্তান প্রদেশের সুন্নি মুসলিম উলামা ও ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ এক নজিরবিহীন ঐক্যবদ্ধ অবস্থানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক জিহাদের আহ্বান জানিয়েছেন। শুক্রবার (৬ মার্চ) দেশটির অন্যতম গণমাধ্যম পার্স টুডের একটি বিশেষ প্রতিবেদনে জানানো হয় যে ওই অঞ্চলের ৬৬০ জন প্রভাবশালী সুন্নি আলেম এক যৌথ বিবৃতির মাধ্যমে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর প্রতি তাদের পূর্ণ সমর্থন ও সংহতি প্রকাশ করেছেন। বর্তমানের এই সংকটময় মুহূর্তে তারা পশ্চিমা শক্তি ও ইসরাইলি আগ্রাসনকে রুখে দিতে মুসলিম উম্মাহর প্রতি যে জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন তা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
প্রকাশিত বিবৃতিতে ৬৬০ জন ধর্মীয় নেতা ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনির শাহাদাতে গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করেন। তারা তার সুদীর্ঘ জীবনের স্মৃতিচারণ করে বলেন যে খামেনি আমৃত্যু সত্য প্রতিষ্ঠা ও বিশ্বজুড়ে নিপীড়িত মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে নিজেকে উৎসর্গ করেছিলেন। আলেমদের মতে ইসলামের মর্যাদা রক্ষা এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের মাধ্যমে তিনি যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তা তাকে শাহাদাতের সর্বোচ্চ মর্যাদায় আসীন করেছে। সর্বোচ্চ নেতার এই প্রস্থানকে তারা কেবল একটি জাতির ক্ষতি হিসেবে নয় বরং সমগ্র মুসলিম বিশ্বের জন্য এক অপূরণীয় শূন্যতা হিসেবে অভিহিত করেছেন।
সুন্নি ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ তাদের বিবৃতিতে অত্যন্ত কঠোরভাবে উল্লেখ করেছেন যে বর্তমান প্রেক্ষাপটে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্মিলিত এই আগ্রাসন কোনো নির্দিষ্ট ভূখণ্ড বা জাতির বিরুদ্ধে নয় বরং এটি মূলত ইসলাম এবং সমগ্র মুসলিম উম্মাহর অস্তিত্বের ওপর সরাসরি আঘাত। এই সংকটকালীন সময়ে বিশ্বের সকল স্বাধীনতাকামী মানুষ বিশেষ করে আলেম ওলামা ও চিন্তাবিদদের ওপর অর্পিত ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় দায়িত্ব পালনের ওপর তারা বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তারা বিশ্বাস করেন যে আদর্শগত ঐক্য ও দৃঢ় সংকল্পের মাধ্যমেই কেবল সাম্রাজ্যবাদী এই অপশক্তির আস্ফালন দমন করা সম্ভব।
ইতিহাসের প্রতিটি বাঁকে যখনই অন্ধকার ঘনিয়ে এসেছে তখনই আধ্যাত্মিক ও ধর্মীয় নেতৃত্বের এই বজ্রকণ্ঠ মানুষের হৃদয়ে সাহস ও আশার আলো হয়ে দেখা দিয়েছে। যখন ত্যাগের মহিমায় দেশপ্রেম আর বিশ্বাসের বন্ধন একবিন্দুতে মিলিত হয় তখন যেকোনো পরাশক্তির আগ্রাসন ম্লান হয়ে যেতে বাধ্য। ন্যায়ের এই পথে শহীদদের রক্তভেজা ত্যাগ কখনও বৃথা যায় না বরং তা অনাগত প্রজন্মের জন্য হয়ে ওঠে এক অবিনাশী আলোকবর্তিকা। আমরা এমন এক আগামীর স্বপ্ন দেখি যেখানে প্রতিটি জনপদ হবে শোষনমুক্ত এবং ঐক্যবদ্ধ শক্তির কাছে পরাজিত হবে সকল প্রকার অন্যায় আর অত্যাচার। বিশ্বাসের এই অটুট শক্তিতেই একদিন পৃথিবী ফিরে পাবে তার কাঙ্ক্ষিত শান্তি ও মানবিক মর্যাদা।