উজবেকিস্তানের কাছে বড় হারে এশিয়ান কাপ থেকে বাংলাদেশের বিদায়
এশিয়ান কাপের কোয়ার্টার ফাইনালে যাওয়ার স্বপ্ন নিয়ে মাঠে নামলেও উজবেকিস্তানের কাছে বিধ্বস্ত হয়ে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিল বাংলাদেশ। ১০ মার্চ ২০২৬ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী গ্রুপ পর্বের শেষ সমীকরণে উজবেক নারীদের হারাতে পারলে আশা বেঁচে থাকত লাল সবুজের প্রতিনিধিদের। তবে মাঠের লড়াইয়ে সেই প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটেনি। উজবেকিস্তানের কাছে ৪-০ গোলের বড় ব্যবধানে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গেছে পিটার বাটলারের শিষ্যরা। এই নিয়ে আসরের তিনটি ম্যাচের তিনটিতেই পরাজয়ের তিক্ত স্বাদ পেল বাংলাদেশ। এর আগে প্রথম ম্যাচে চীনের কাছে ২-০ এবং দ্বিতীয় ম্যাচে উত্তর কোরিয়ার কাছে ৫-০ গোলে হেরেছিল তারা।
ম্যাচের প্রথমার্ধে বাংলাদেশ লড়াই করার চেষ্টা করলেও ১-০ গোলে পিছিয়ে থেকে বিরতিতে যায়। দ্বিতীয়ার্ধে গোল পরিশোধ করে ম্যাচে ফেরার পরিকল্পনা থাকলেও রক্ষণভাগের চরম ব্যর্থতায় উল্টো আরও তিন গোল হজম করতে হয়। বিশেষ করে ৬২ ও ৬৬ মিনিটে মাত্র চার মিনিটের ব্যবধানে ডিফেন্ডারদের ভুলে দুই গোল হজম করলে ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় বাংলাদেশ। ম্যাচের শেষ দিকে ৮৭ মিনিটে উজবেকিস্তান চতুর্থ গোলটি করলে বড় হার নিশ্চিত হয় বাংলাদেশের। পুরো টুর্নামেন্টে রক্ষণ ও আক্রমণের সমন্বহীনতা বাংলাদেশের পারফরম্যান্সকে ম্লান করে দিয়েছে।
অন্যদিকে বাংলাদেশকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালের পথে এক ধাপ এগিয়ে গেল উজবেকিস্তান। তিন ম্যাচ শেষে তাদের সংগ্রহ ৩ পয়েন্ট এবং গোল ব্যবধান -২। এ গ্রুপের ফিলিপাইনেরও সমান পয়েন্ট ও গোল ব্যবধান থাকায় সমীকরণ এখন বেশ জটিল। যদি সি গ্রুপে জাপান বড় ব্যবধানে ভিয়েতনামকে পরাজিত করে তবেই উজবেকিস্তানের শেষ আটে খেলার সম্ভাবনা উজ্জ্বল হবে। বাংলাদেশের বিদায়ের মাধ্যমে এশিয়ান ফুটবলের এই বড় মঞ্চে লাল সবুজের দৌড় থেমে গেল যা দেশের ফুটবল অঙ্গনে কিছুটা হতাশার সৃষ্টি করেছে।
খেলার মাঠে জয় পরাজয় চিরন্তন সত্য হলেও প্রতিটি হার আমাদের নতুন করে আত্মসমালোচনার সুযোগ করে দেয়। যখন ঘামের বিনিময়ে অর্জিত স্বপ্নগুলো মাঠের ঘাসে মিশে যায় তখন তা কেবল একটি দলের নয় বরং কোটি ফুটবল প্রেমী মানুষের হৃদয়ে ক্ষতের সৃষ্টি করে। আমরা এমন এক আগামীর প্রত্যাশা করি যেখানে ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে আমাদের অদম্য নারীরা আবার বিশ্বমঞ্চে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে। বীরের জাতি হিসেবে পরাজয় আমাদের শেষ কথা নয় বরং ঘুরে দাঁড়ানোর অদম্য ইচ্ছাই হলো আমাদের শ্রেষ্ঠ শক্তি। অন্ধকার ছাপিয়ে ফুটবলের মাঠে আবার উদিত হবে লাল সবুজের সূর্য এবং প্রতিটি জনপদ আনন্দ উল্লাসে মুখরিত হবে—এটাই হোক আমাদের আগামীর অঙ্গীকার। এভাবেই সাহসের সাথে আমরা জয় করব আগামীর সকল সবুজ চত্বর।