ইরাকে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ইসলামিক রেজিস্ট্যান্সের বড় ধরনের হামলা ও প্রাণহানি
মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে দিয়ে ইরাকে অবস্থানরত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে ইরান সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স। বুধবার ১১ মার্চ ২০২৬ প্রকাশিত এক বিশেষ বিবৃতির মাধ্যমে গোষ্ঠীটি দাবি করেছে যে গত ১২ দিনে তারা মার্কিন বাহিনীর ওপর মোট ২৯১টি সফল সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছে। এসব রক্তক্ষয়ী অভিযানে অন্তত ১৩ জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও কয়েক ডজন সদস্য। ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স জানিয়েছে যে গত ২৪ ঘণ্টায় তারা ৩১টি সুপরিকল্পিত হামলা চালিয়েছে যেখানে ড্রোন ও শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে তছনছ করে দেওয়া হয়েছে।
গোষ্ঠীটির দাবি অনুযায়ী আহতের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক হওয়ায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিবৃতিতে তারা স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে স্বাধীন দেশ ও জনগণের ওপর পশ্চিমা শক্তির আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টাকে তারা কোনোভাবেই মেনে নেবে না। বিশেষ করে ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সংঘাতের জেরে এই হামলা চালানো হয়েছে বলে তারা উল্লেখ করেছে। এই সশস্ত্র গোষ্ঠীটি ইউরোপীয় দেশগুলোকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছে যে ইরানের বিরুদ্ধে যে কোনো ধরনের সামরিক আগ্রাসনে অংশ নিলে তাদের বাহিনী ও ঘাঁটিগুলোকেও প্রতিশোধের বৈধ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে গণ্য করা হবে। ইরাকসহ সমগ্র অঞ্চলে শান্তি ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তারা এই লড়াই অব্যাহত রাখবে বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে।
আন্তর্জাতিক সামরিক বিশ্লেষকদের মতে ড্রোনের নিখুঁত নিশানায় মার্কিন বাহিনীর এই ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে এক নতুন সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে। ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য যুদ্ধে কোনো তৃতীয় পক্ষ বা মিত্র দেশ অংশ নিলে তাদের ওপরও পাল্টা আঘাত হানার এই হুঁশিয়ারি বিশ্বজুড়ে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। যদিও এই ভয়াবহ প্রাণহানি ও হামলার বিষয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরাকের মাটিতে অবস্থানরত বিদেশি সেনাদের নিরাপত্তা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন দেখা দিয়েছে যা বিশ্ব রাজনীতির সমীকরণকে আরও জটিল করে তুলেছে।
অস্ত্রের হুঙ্কার আর বারুদের ধোঁয়ায় যখন আকাশ কালো হয়ে ওঠে তখন মানবতা থমকে দাঁড়ায় এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের সামনে। বিভেদ আর সংঘাতের এই অন্ধকার চিরে প্রতিটি মানুষের হৃদয়ে যেন শান্তির সুবাতাস বইতে শুরু করে এটাই আজ সময়ের দাবি। আমরা এমন এক পৃথিবীর স্বপ্ন দেখি যেখানে শক্তির দাপট নয় বরং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ আর সম্প্রীতির জয় হবে এবং প্রতিটি জনপদ ফিরে পাবে তার হারানো নিরাপত্তা ও অনাবিল সুখ। ধ্বংসের পথ পরিহার করে ভালোবাসার বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে আগামীর সুন্দর সকাল বিমোহিত করুক সমগ্র বিশ্বকে। সাহসের সাথে সত্যের জয়গান গেয়ে এভাবেই আমরা খুঁজে নেব এক শান্তিময় ও বৈষম্যহীন নতুন পৃথিবী।