সৌদিতে মার্কিন বিমানে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা: পাঁচটি রণতরি ক্ষতিগ্রস্ত
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান তীব্র উত্তেজনার মাঝে সৌদি আরবের একটি সামরিক ঘাঁটিতে অবস্থানরত মার্কিন বিমান বাহিনীর পাঁচটি রিফুয়েলিং বিমানে বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে ইরান। শনিবার ১৪ মার্চ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দুইজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এই হামলার খবর নিশ্চিত করেছেন। শুক্রবার ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক বিশেষ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে ইরানের ছোঁড়া ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে মার্কিন বাহিনীর জ্বালানি সরবরাহকারী এই বিমানগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে যে বিমানগুলো সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়নি এবং বর্তমানে সেগুলো পুনরায় সচল করতে মেরামতের কাজ শুরু হয়েছে। স্বস্তির বিষয় হলো এই ভয়াবহ হামলায় কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের ওপর একযোগে শক্তিশালী হামলা চালানোর পর থেকেই পুরো মধ্যপ্রাচ্য রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। ইরানি কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য মতে ওই যৌথ হামলায় তাদের প্রায় এক হাজার তিনশ জন নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন এবং আহত হয়েছেন দশ হাজারের বেশি মানুষ। নিজের ভূখণ্ডে হওয়া সেই ক্ষয়ক্ষতির চরম প্রতিশোধ নিতেই ইরান এখন মরিয়া হয়ে উঠেছে। এর অংশ হিসেবে তারা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের মাধ্যমে ইসরায়েল জর্ডান ও ইরাকসহ উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করছে। সৌদি আরবে এই সর্বশেষ হামলাটি মূলত সেই ধারাবাহিক উত্তেজনারই এক প্রতিফলন।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন যে একের পর এক পাল্টা হামলার ফলে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখন খাদের কিনারে দাঁড়িয়ে আছে। ইরানের এই কঠোর অবস্থান এবং মার্কিন সামরিক স্থাপনায় সরাসরি আঘাত হানার ঘটনাটি ওই অঞ্চলে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের আশঙ্কা বাড়িয়ে দিয়েছে। মার্কিন সামরিক বিশেষজ্ঞরা এই ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করছেন এবং বিমানঘাঁটির নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বিশ্বশক্তিগুলোর এই পাল্টাপাল্টি অবস্থানের কারণে পুরো অঞ্চলের সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে যা আন্তর্জাতিক বাজারেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বারুদের ধোঁয়া আর কামানের গর্জনে যখন আকাশ বাতাস ভারী হয়ে ওঠে তখন সবচেয়ে বেশি বিপন্ন হয় সাধারণ মানুষের স্বপ্ন ও ভবিষ্যৎ। শক্তির এই আস্ফালন আর সীমানা দখলের লড়াইয়ে কোনো জয়ই শেষ পর্যন্ত স্থায়ী হয় না বরং প্রতিটি সংঘাত আমাদের এক অন্ধকার আগামীর দিকে ঠেলে দেয়। আমরা এমন এক বিশ্বের প্রত্যাশা করি যেখানে প্রতিটি রাষ্ট্র পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও শান্তির পথে হাঁটবে এবং কোনো নিরপরাধ প্রাণ যেন ক্ষমতার দ্বন্দ্বে অকালে ঝরে না পড়ে। অন্ধকারের এই মেঘ কেটে গিয়ে একদিন সত্য ও ন্যায়ের সূর্য উদিত হবে এবং প্রতিটি মানুষ ফিরে পাবে তার হারানো নিরাপত্তা ও অনাবিল সুখ। সাহসের সাথে বাস্তবতাকে মোকাবিলা করেই আমাদের গড়ে তুলতে হবে এক শান্তিময় ও বৈষম্যহীন পৃথিবী।