ইরানের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সামরিক ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি সৌদি আরবের: আস্থার পূর্ণ অবনতি
মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ইরান ও সৌদি আরবের মধ্যকার দীর্ঘদিনের উত্তেজনা এখন সরাসরি সামরিক সংঘাতের হুমকিতে রূপ নিয়েছে। সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান আল সউদ তেহরানের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডকে প্রতিবেশীদের ওপর অনৈতিক চাপ প্রয়োগ ও ব্ল্যাকমেলের নির্লজ্জ প্রচেষ্টা হিসেবে অভিহিত করেছেন। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) রাজধানী রিয়াদে আয়োজিত আঞ্চলিক ও ইসলামী রাষ্ট্রসমূহের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এই কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন যে ইরান আলোচনার টেবিলে বিশ্বাস না করে বরং প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর ওপর আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করছে যা কোনোভাবেই সফল হবে না এবং প্রয়োজনে সৌদি আরব তার সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সামরিক ব্যবস্থা নেওয়ার পূর্ণ অধিকার রাখে।
সৌদি আরবের শীর্ষ এই কূটনীতিক জানান যে রিয়াদে আন্তর্জাতিক বৈঠকটি শুরু হওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে ইরান চারটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে যা সৌদি প্রতিরক্ষা বাহিনী সফলভাবে প্রতিহত ও ধ্বংস করেছে। প্রিন্স ফয়সালের মতে এই হামলাটি ছিল পরিকল্পিতভাবে উপস্থিত বিশ্বনেতাদের ভয় দেখানোর একটি অপচেষ্টা যাতে বার্তা দেওয়া যায় যে ইরান তার আগ্রাসন থামাবে না। তিনি অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে উল্লেখ করেন যে এই ধরনের আচরণের পর ইরানের প্রতি অবশিষ্ট সামান্যতম আস্থাও পুরোপুরি চুরমার হয়ে গেছে এবং তেহরানকে এখন আর কোনো বৈধ অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই। বিশেষ করে বেসামরিক ও জ্বালানি স্থাপনা লক্ষ্য করে চালানো এই হামলাগুলো প্রমাণ করে যে ইরানের আগ্রাসনের প্রতি রিয়াদের ধৈর্য এখন সীমার শেষ প্রান্তে পৌঁছেছে।
বৈঠকে উপস্থিত পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা একমত হয়েছেন যে ইরানকে অবিলম্বে তাদের প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সমর্থন বন্ধ করতে হবে এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বিনষ্টকারী কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকতে হবে। প্রিন্স ফয়সাল ইরানের দেওয়া যুক্তিগুলোকে অবিশ্বাস্য দাবি করে বলেন যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটির দোহাই দিয়ে প্রতিবেশী দেশগুলোর বেসামরিক স্থাপনায় হামলা চালানো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি হুঁশিয়ারি প্রদান করেন যে তেহরানের এই একরোখা নীতি কেবল তাদের আন্তর্জাতিক বিচ্ছিন্নতাই বৃদ্ধি করবে এবং নৌচলাচলের স্বাধীনতার ওপর যেকোনো হুমকির বিরুদ্ধে সম্মিলিত বৈশ্বিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। সৌদি আরব কোনো চাপের কাছে নতি স্বীকার করবে না বরং প্রতিটি আক্রমণের সমুচিত জবাব দিতে তারা রাজনৈতিক ও নৈতিকভাবে সম্পূর্ণ প্রস্তুত।
বারুদের গন্ধ আর পাল্টাপাল্টি হুমকির এই উত্তপ্ত সময়ে যখন সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার উপক্রম হয় তখন সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়ানোই প্রতিটি রাষ্ট্রের প্রধান কর্তব্য। কোনো একটি দেশের আধিপত্যকামী লালসা যেন পুরো অঞ্চলের শান্তি ও সমৃদ্ধিকে ধূলিসাৎ করতে না পারে সেটিই আজ বিশ্ববাসীর একান্ত প্রার্থনা। আমরা এমন এক আগামীর প্রত্যাশা করি যেখানে অস্ত্রের ঝনঝনানি নয় বরং পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সার্বভৌমত্বের স্বীকৃতি হবে প্রতিটি সম্পর্কের মূল ভিত্তি। অন্ধকারের সকল ষড়যন্ত্র ও আগ্রাসনের কালো মেঘ মুছে গিয়ে শান্তির আলোয় আলোকিত হোক প্রতিটি সীমান্ত এবং প্রতিটি মানুষ ফিরে পাক তার নির্ভয় যাপন ও চিরস্থায়ী নিরাপত্তা। সাহসের সাথে প্রতিটি অন্যায়ের প্রতিবাদ করেই আমাদের গড়ে তুলতে হবে এক স্থিতিশীল ও নিরাপদ পৃথিবী।