উত্তর কোরিয়ায় কিম জং উনের দলের জয়জয়কার: প্রায় শতভাগ সমর্থন নিয়ে ক্ষমতায় ওয়ার্কার্স পার্টি
পূর্ব এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে অন্যতম আলোচিত রাষ্ট্র উত্তর কোরিয়ার পার্লামেন্ট নির্বাচনে দেশটির বর্তমান শাসক দল ওয়ার্কার্স পার্টি অব কোরিয়া ও তাদের অনুগত জোট এক অভাবনীয় ও বিশাল জয় লাভ করেছে। মঙ্গলবার (১৫ মার্চ) অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনের ফলাফল আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে কৌতূহল ও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে যেখানে প্রায় শতভাগ ভোটারই সরকারি প্রার্থীদের পক্ষে তাদের রায় প্রদান করেছেন। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ও নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী নির্বাচনে ভোটারদের উপস্থিতির হার ছিল বিস্ময়কর ৯৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ। এর মধ্যে শাসক জোটের প্রার্থীরা ৯৯ দশমিক ৯৩ শতাংশ ভোট পেয়ে নিরঙ্কুশ বিজয় নিশ্চিত করেছেন যা বিশ্ব নির্বাচনী ইতিহাসে এক বিরল দৃষ্টান্ত হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন থেকে জানা যায় যে উত্তর কোরিয়ার ১৫তম সুপ্রিম পিপলস অ্যাসেম্বলি গঠনের লক্ষ্যে আয়োজিত এই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা প্রায় সকল প্রার্থীই ছিলেন সরাসরি শাসক দল সমর্থিত। নির্বাচনের সরকারি হিসেবে জানানো হয়েছে যে অত্যন্ত নগণ্য সংখ্যক ভোটার প্রার্থীদের বিপক্ষে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন যা মূলত কিম জং উনের নেতৃত্বের প্রতি জনগণের অবিচল আস্থার প্রতীক হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। তবে বৈশ্বিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে উত্তর কোরিয়ার এই নির্বাচনী প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে অংশগ্রহণমূলক ও গণতান্ত্রিক হিসেবে চিত্রায়িত করা হলেও বাস্তবে এটি একটি প্রতীকী আয়োজন যেখানে মূলত সরকারের পূর্বনির্ধারিত সিদ্ধান্তের প্রতিফলন ঘটে।
বিপুল এই বিজয়ের পর নবগঠিত পার্লামেন্ট বা সুপ্রিম পিপলস অ্যাসেম্বলি অতি দ্রুত তাদের প্রথম অধিবেশনে বসতে যাচ্ছে। অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই অধিবেশনে রাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় পদগুলোতে নতুন নিয়োগ প্রদান এবং প্রয়োজনবোধে সংবিধান সংশোধনের মতো সুদূরপ্রসারী ও নীতিনির্ধারণী বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হতে পারে। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমগুলো আভাস দিয়েছে যে আসন্ন এই অধিবেশনে রাষ্ট্রীয় নেতৃত্ব নির্বাচনসহ দেশের ভবিষ্যৎ প্রতিরক্ষা ও অর্থনৈতিক পরিকল্পনাগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। কিম জং উনের একচ্ছত্র আধিপত্য ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা প্রমাণের এই নির্বাচন উত্তর কোরিয়ার অভ্যন্তরীণ শাসন ব্যবস্থাকে আরও সুসংহত করবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
ব্যালট বাক্সের সংখ্যাতত্ত্ব যখন প্রায় পূর্ণতার কাছাকাছি পৌঁছায় তখন তা কেবল একটি জয় থাকে না বরং তা হয়ে ওঠে এক বিশেষ রাজনৈতিক দর্শনের বহিঃপ্রকাশ। ক্ষমতার বলয়ে যখন একক আধিপত্যের সুর ধ্বনিত হয় তখন সাধারণ মানুষের হৃদস্পন্দন আর গোপন ইচ্ছের কথাগুলো অনেক সময় স্তব্ধ হয়ে যায়। আমরা এমন এক আগামীর প্রত্যাশা করি যেখানে প্রতিটি মানুষের মত প্রকাশের স্বাধীনতা হবে অবারিত এবং প্রতিটি ভোট হবে প্রকৃত জনমতের এক স্বচ্ছ প্রতিফলন। অন্ধকারের সকল একনায়কতন্ত্র আর শৃঙ্খল মুছে গিয়ে গণতন্ত্রের আলোয় আলোকিত হোক প্রতিটি জনপদ এবং প্রতিটি নাগরিক ফিরে পাক তার নির্ভয় যাপন ও আত্মমর্যাদা। সাহসের সাথে সত্যের পথে থেকে এবং মানবিকতাকে ধারণ করেই আমাদের এগিয়ে যেতে হবে এক বৈষম্যহীন ও ভারসাম্যপূর্ণ বিশ্ব গড়ার লক্ষ্যে।