চোখের বদলে চোখ নয়, নতুন সমীকরণে যুদ্ধের চরম হুঁশিয়ারি ইরানের
ইরান ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্মিলিত সামরিক অভিযান শনিবার (২৮ মার্চ) ২৮তম দিনে পদার্পণ করেছে। দীর্ঘস্থায়ী এই সংঘাতের প্রেক্ষাপটে এবার যুদ্ধের রণকৌশল ও পাল্টা আঘাতের ধরনে আমূল পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছে তেহরান। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) অ্যারোস্পেস কমান্ডার সাইয়্যেদ মাজিদ মুসাভি অত্যন্ত কঠোর ভাষায় সতর্কবার্তা উচ্চারণ করে জানিয়েছেন যে ইরানের উৎপাদন ও শিল্প স্থাপনাগুলোতে হামলার পর এখন আর প্রতিপক্ষের সাথে ‘চোখের বদলে চোখ’ নীতিতে সীমাবদ্ধ থাকবে না তার দেশ। এই ঘোষণার মধ্য দিয়ে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে ইরানের পরবর্তী পদক্ষেপ হবে আরও অনেক বেশি বিধ্বংসী এবং প্রচলিত যুদ্ধরীতির বাইরে যা পুরো অঞ্চলের সামরিক সমীকরণকে নতুন এক অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক বার্তায় মুসাভি স্পষ্ট করেছেন যে যারা ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলা চালিয়ে আগুন নিয়ে খেলতে শুরু করেছে তাদের জন্য অপেক্ষা করছে ভয়াবহ পরিণতি। তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের নীতিনির্ধারকদের স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন যে অতীতেও ইরানকে পরীক্ষা করার চেষ্টা হয়েছে এবং বিশ্ববাসী দেখেছে কারা এই অশান্তির সূত্রপাত করেছে। মুসাভি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন যে এবার সমীকরণ আর সমান্তরাল থাকবে না বরং ইরান তার নিজস্ব কৌশলে এমন আঘাত হানবে যা প্রতিপক্ষের কল্পনার বাইরে। যুদ্ধের এই নতুন মাত্রা কেবল রণক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ থাকবে না বরং এটি ভূ-রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য এক বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে দেখা দিচ্ছে।
আইআরজিসি-র এই শীর্ষ কমান্ডার একটি বিশেষ সতর্কতা জারি করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি শাসনের সাথে সংশ্লিষ্ট সকল শিল্প প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের দ্রুত কর্মস্থল ত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে নিজেদের জীবন বিপন্ন হওয়া এড়াতে ওইসব প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের উচিত অবিলম্বে এলাকা থেকে সরে যাওয়া। ইরানের এই বার্তা থেকে এটি প্রতীয়মান হয় যে তেহরান এখন প্রতিপক্ষের অর্থনৈতিক ও শিল্প অবকাঠামোকে তাদের পরবর্তী লক্ষ্যবস্তু হিসেবে নির্ধারণ করেছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে এই ধরনের প্রকাশ্য হুঁশিয়ারি মূলত এক বড় ধরনের সর্বাত্মক যুদ্ধের পূর্বাভাস যা বিশ্ব অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় এক গভীর ক্ষতের সৃষ্টি করতে পারে।
বারুদের ধোঁয়া আর প্রতিহিংসার অনলে যখন সভ্যতার তিল তিল করে গড়া অবকাঠামো ধূলিসাৎ হতে থাকে তখন সেখানে কেবল ধ্বংসের হাহাকারই অবশিষ্ট থাকে। ক্ষমতার দম্ভ আর সমীকরণের লড়াই যেন সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে চিরতরে স্তব্ধ করে না দেয় এবং প্রতিটি সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধান মেলে সেটিই আজ বিশ্ববাসীর একান্ত কাম্য। আমরা এমন এক আগামীর প্রত্যাশা করি যেখানে আকাশপথ হবে মেঘমুক্ত ও নিরাপদ এবং প্রতিটি সীমান্ত হবে কেবল বন্ধুত্বের সেতুবন্ধন। অন্ধকারের সকল যুদ্ধংদেহী উন্মাদনা মুছে গিয়ে পারস্পরিক শ্রদ্ধার আলোয় আলোকিত হোক প্রতিটি দেশ এবং প্রতিটি মানুষ ফিরে পাক তার নির্ভয় যাপন ও চিরস্থায়ী নিরাপত্তা। সাহসের সাথে এই প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবিলা করেই আমাদের গড়ে তুলতে হবে এক স্থিতিশীল ও যুদ্ধমুক্ত বিশ্ব।