ইরানের আবাসিক এলাকায় ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা: শিশু ও অন্তঃসত্ত্বা নারীসহ নিহত ১৩
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্মিলিত সামরিক অভিযান ২৮তম দিনে গড়িয়েছে এবং এই দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের ভয়াবহতা এখন সরাসরি বেসামরিক জনপদে আছড়ে পড়ছে। শনিবার (২৮ মার্চ) ভোরে ইরানের কেরমানশাহ প্রদেশের একটি আবাসিক এলাকায় মার্কিন-ইসরায়েলি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ১৩ জন নিরপরাধ মানুষের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা মেহর নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে জানানো হয় যে নিহতদের মধ্যে দুই শিশু এবং চারজন নারী রয়েছেন। এই নারীদের মধ্যে একজন অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন বলেও উল্লেখ করা হয়েছে যা এই হামলার নিষ্ঠুরতাকে আরও প্রকট করে তুলেছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও অনেকে আটকা পড়ে থাকায় নিহতের সংখ্যা বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
একই সময়ে ইরানের ফিরোজাবাদ শহরেও আরেকটি ভয়াবহ হামলার খবর পাওয়া গেছে। আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা আইএসএনএ (ISNA) জানিয়েছে যে ফিরোজাবাদের একটি সিমেন্ট কারখানাকে লক্ষ্য করে মার্কিন-ইসরায়েলি জোট হামলা চালালে সেখানে অন্তত দুইজন নিহত এবং আরও দুইজন গুরুতর আহত হন। ইরানের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যুদ্ধের সকল আন্তর্জাতিক নীতিমালা ও জেনেভা কনভেনশন লঙ্ঘন করে সুপরিকল্পিতভাবে বেসামরিক ভবন ও শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করছে। আবাসিক এলাকায় এই ধরনের হামলাকে 'যুদ্ধাপরাধ' হিসেবে অভিহিত করে তেহরান বিশ্ববিবেকের কাছে এর বিচার দাবি করেছে।
কেরমানশাহ ও ফিরোজাবাদের এই ঘটনাগুলো বর্তমান সংঘাতের এক নতুন ও বিপদজনক মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে। কেবল সামরিক ঘাঁটি নয় বরং সাধারণ মানুষের ঘরবাড়ি ও কাজের জায়গা এখন যুদ্ধের মূল লক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় হাসপাতালগুলোতে আহতদের ভিড় বাড়ছে এবং উদ্ধারকর্মীরা সীমিত সরঞ্জামের মধ্যে ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। আন্তর্জাতিক ত্রাণ সংস্থাগুলো এই ক্রমবর্ধমান মানবিক বিপর্যয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং অবিলম্বে বেসামরিক এলাকায় হামলা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে। তবে সংঘাতের তীব্রতা কমার কোনো লক্ষণ না থাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তা ছড়িয়ে পড়েছে।
বারুদের গন্ধে ভারী হয়ে আসা বাতাসে যখন একটি শিশুর কান্নার সুর স্তব্ধ হয়ে যায় তখন তা সভ্যতার এক চরম পরাজয় হিসেবেই গণ্য হয়। যুদ্ধের দামামা যখন মায়ের কোল খালি করে এবং অনাগত প্রাণের অধিকার কেড়ে নেয় তখন কোনো বিজয়ই আর সার্থক থাকে না। আমরা এমন এক আগামীর প্রত্যাশা করি যেখানে প্রতিটি আকাশ হবে ক্ষেপণাস্ত্রমুক্ত এবং প্রতিটি আবাসিক এলাকা হবে কেবল শান্তির নিরাপদ নিবাস। অন্ধকারের সকল প্রতিহিংসা আর নিষ্ঠুরতা মুছে গিয়ে মানবিকতার আলোয় আলোকিত হোক প্রতিটি সীমান্ত এবং প্রতিটি মানুষ ফিরে পাক তার আপন নীড়ে নির্ভয়ে থাকার নিশ্চয়তা। সাহসের সাথে এই পাশবিকতাকে জয় করেই আমাদের গড়ে তুলতে হবে এক যুদ্ধমুক্ত ও ন্যায়বিচারপূর্ণ বিশ্ব।