টানা সাত দফা কমার পর বাড়ল স্বর্ণের দাম: ভরি ২ লাখ ৩৭ হাজার টাকা ছাড়াল
দেশের বাজারে টানা সাতবার কমার পর আবারও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে স্বর্ণের দাম। স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পাকা স্বর্ণ) দাম বাড়ার পরিপ্রেক্ষিতে সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম ২ হাজার ১৫৭ টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে। এর ফলে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের নতুন দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৩৭ হাজার ১২ টাকা। শনিবার (২৮ মার্চ) সকাল ১০টা থেকে এই নতুন দর কার্যকর হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)।
বাজুস স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং কমিটির এক জরুরি বৈঠকে এই দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কমিটির চেয়ারম্যান ডা. দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীনের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয় যে, ২১ ক্যারেট মানের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ হাজার ৫৯ টাকা বাড়িয়ে ২ লাখ ২৬ হাজার ২৪১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া ১৮ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণে ১ হাজার ৭৫০ টাকা বৃদ্ধি করে নতুন দাম ১ লাখ ৯৩ হাজার ৯১৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণে ১ হাজার ৪৫৮ টাকা বাড়িয়ে ১ লাখ ৫৭ হাজার ৯৩১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। উল্লেখ্য যে, এর আগে গত শুক্রবার এক ধাক্কায় ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ৬ হাজার ৫৯০ টাকা কমানো হয়েছিল।
স্বর্ণের বাজারে এই অস্থিরতা থাকলেও রুপার দাম বর্তমানে অপরিবর্তিত রয়েছে। বাজুসের নির্ধারিত তালিকা অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম ৫ হাজার ৩৬৫ টাকাতেই স্থিতিশীল আছে। এছাড়া ২১ ক্যারেট ৫ হাজার ১৩২ টাকা, ১৮ ক্যারেট ৪ হাজার ৪৩২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম ৩ হাজার ৩২৪ টাকা বহাল রাখা হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে সমন্বয় এবং দেশীয় চাহিদার ওপর ভিত্তি করে স্বর্ণের এই ঘনঘন দাম পরিবর্তন সাধারণ ক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে।
বাজারের এই উঠানামা যখন সাধারণ মানুষের সঞ্চয় আর স্বপ্নের অলংকারের নাগাল ছোট করে দেয়, তখন তা অর্থনীতির এক অনিশ্চিত চিত্রই ফুটিয়ে তোলে। মূল্যবান ধাতুর এই অস্থিরতা কেবল ব্যবসার হিসাব নয় বরং মধ্যবিত্তের আস্থার জায়গাতেও এক বড় ধরনের দোলা দেয়। আমরা এমন এক আগামীর প্রত্যাশা করি যেখানে বাজার ব্যবস্থা হবে স্থিতিশীল এবং প্রতিটি নাগরিক তার পরিশ্রমের বিনিময়ে স্বচ্ছ ও নায্য মূল্যে প্রয়োজনীয় সম্পদ অর্জনের সুযোগ পাবে। অন্ধকারের সকল অস্থিতিশীলতা আর উচ্চমূল্যের চাপ মুছে গিয়ে সচ্ছলতার আলোয় আলোকিত হোক প্রতিটি ঘর এবং প্রতিটি মানুষ ফিরে পাক তার আর্থিক নিরাপত্তা ও বিনিয়োগের নিশ্চয়তা। সাহসের সাথে এই অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেই আমাদের গড়ে তুলতে হবে এক সুশৃঙ্খল ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ।