ভারতের মুর্শিদাবাদে ভোটাধিকার হারালেন নবাব মীর জাফরের উত্তরসূরিরা
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলায় ঐতিহাসিক নবাব পরিবারের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সদস্যের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ার এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বর্তমানে যে বিশেষ সংক্ষিপ্ত পুনর্বিবেচনা প্রক্রিয়া চলছে সেই তালিকায় নবাব পরিবারের শতাধিক সদস্যের নাম খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর মুর্শিদাবাদের কিল্লা নিজামত এলাকাসহ পুরো রাজ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। মীর জাফরের বংশধররা দীর্ঘদিন ধরে এই এলাকায় স্থায়ীভাবে বসবাস করলেও হঠাৎ করে তাদের ভোটাধিকার নিয়ে এমন অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে নানা প্রশ্নের উদ্রেক হয়েছে।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট অনুযায়ী ১৭৫৭ সালের পলাশীর যুদ্ধের পরবর্তী সময়ে বাংলার নবাব হিসেবে অধিষ্ঠিত মীর জাফরের বর্তমান বংশধররা ভারতের নিয়মিত নাগরিক হিসেবেই পরিচিত। বর্তমানে এই পরিবারের ১৫তম উত্তরসূরি রেজা আলি মির্জাসহ তার স্বজনদের অভিযোগ যে তারা ভারতের নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে শুনানির নোটিশ পাওয়ার পর যথাসময়ে সব বৈধ নথিপত্র উপস্থাপন করেছিলেন। তবে প্রশাসনিক সেই আইনি প্রক্রিয়া ও তথ্য যাচাইয়ের পরেও অধিকাংশ সদস্যের নাম ভোটার তালিকা থেকে স্থায়ীভাবে মুছে দেওয়া হয়েছে। ফলে আগামী নির্বাচনে তারা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করতে পারবেন কি না তা নিয়ে ঘোরতর সংশয় দেখা দিয়েছে।
একটি সুসংহত গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় নাগরিকের ভোটাধিকার হচ্ছে তার শ্রেষ্ঠতম মৌলিক অধিকার ও রাষ্ট্রীয় অস্তিত্বের পরিচয়। বংশানুক্রমিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে একজন প্রকৃত নাগরিকের ভোট দেওয়ার সুযোগ কেড়ে নেওয়া শুধু প্রশাসনিক ত্রুটি নয় বরং এটি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নাগরিক সত্তার ওপর এক গভীর আঘাত। আশা করা যায় যথাযথ কর্তৃপক্ষ এই সংবেদনশীল বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবেন এবং কোনো বৈধ নাগরিক যেন তার গণতান্ত্রিক অধিকার থেকে বঞ্চিত না হন তা নিশ্চিত করবেন। কারণ প্রতিটি ভোটই একটি জাতির ভাগ্য পরিবর্তনের কারিগর এবং ইতিহাসের সত্যকে ধারণ করে আগামীকে সুন্দর করার শ্রেষ্ঠ পথ।