শিল্প ও সংস্কৃতিতে অনন্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত হানিফ সংকেত
দেশের শিল্প ও সংস্কৃতি অঙ্গনে দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে নিবিড় নিষ্ঠা এবং সৃজনশীলতার স্বাক্ষর রাখায় মহান স্বাধীনতা পুরস্কার ২০২৬ অর্জন করেছেন বরেণ্য নির্মাতা ও উপস্থাপক হানিফ সংকেত। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) রাজধানীর এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত থেকে তিনি রাষ্ট্রের এই সর্বোচ্চ সম্মাননা গ্রহণ করেন। জাতীয় পর্যায়ে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ এই পদক গ্রহণের সময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, সেলিমা ইসলাম, স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদসহ সরকারের উচ্চপদস্থ ব্যক্তিবর্গ। মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি কর্তৃক পরিচালিত এই সুশোভিত আয়োজনে মন্ত্রিসভার সদস্য ও তিন বাহিনীর প্রধানগণ উপস্থিত থেকে গুণী এই ব্যক্তিত্বের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
একইসাথে লেখক, পরিচালক, সুরকার ও সুবক্তা হিসেবে পরিচিত হানিফ সংকেত মূলত তার কালজয়ী সৃষ্টি ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ইত্যাদির মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রতিটি প্রান্তের মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন। বিটিভিতে আশির দশকের শেষে যাত্রা শুরু করা এই অনুষ্ঠানটি কেবল বিনোদন নয় বরং সমাজ সংস্কার এবং গ্রামীণ জনপদকে তুলে ধরার এক অনন্য হাতিয়ার হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। কিংবদন্তি ফজলে লোহানীর হাত ধরে গণমাধ্যমের আঙিনায় আসা এই কথার জাদুকর ইতিপূর্বে ২০১০ সালে একুশে পদক এবং জাতীয় পরিবেশ পদকেও ভূষিত হয়েছেন। শিল্পকলার বিকাশে তার এই দীর্ঘ পথচলা এবং তৃণমূল পর্যায়ে জনমানুষের সংস্কৃতিকে জনপ্রিয় করার স্বীকৃতি হিসেবে এবারের এই রাষ্ট্রীয় সম্মাননাটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও প্রাসঙ্গিক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বাংলাদেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা হিসেবে পরিচিত স্বাধীনতা পুরস্কার মূলত স্বাধীনতা যুদ্ধ এবং জাতীয় জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের প্রেক্ষিতে প্রদান করা হয়। হানিফ সংকেত তার শৈল্পিক দূরদর্শিতা দিয়ে দেশের টেলিভিশন মাধ্যমকে যে উচ্চতায় নিয়ে গেছেন তার ঋণ স্বীকার করতেই রাষ্ট্র তাকে এই গৌরবে অভিষিক্ত করেছে। সৃজনশীল কাজের মাধ্যমে একটি রাষ্ট্রকে যে কতটা সুন্দরভাবে উপস্থাপন করা যায় তার জ্বলন্ত উদাহরণ এই গুণী ব্যক্তিত্ব। তার এই প্রাপ্তি নতুন প্রজন্মের সংস্কৃতিকর্মীদের জন্য এক উজ্জ্বল আলোকবর্তিকা হিসেবে কাজ করবে যা দেশপ্রেম ও মেধার সংমিশ্রণে সমাজ পরিবর্তনের অনুপ্রেরণা জোগাবে। মূলত এই সম্মাননা কেবল একজন ব্যক্তির নয় বরং সুস্থ ধারার সংস্কৃতির প্রতি রাষ্ট্রের গভীর মমত্ববোধের এক পরম বহিঃপ্রকাশ।