নির্বাচনী জনসভায় জয়নাল আবেদীন নির্বাচিত হলে পাথরকোয়ারি খুলে দেওয়া হবে, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি বন্ধ করা হবে
কোম্পানীগঞ্জ প্রতিনিধি:
সিলেট-৪ আসনের ১১ দলীয় জোট সমর্থিত জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী আলহাজ মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন বলেছেন, নির্বাচিত হলে কোম্পানীগঞ্জসহ পুরো অঞ্চলের দীর্ঘদিনের দাবি পাথরকোয়ারি খুলে দেওয়া হবে। একই সঙ্গে চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সোমবার বিকেলে কোম্পানীগঞ্জের টুকেরবাজার স্কুল মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জয়নাল আবেদীন বলেন, এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের সংগ্রামের ফসল এবার ভোটের মাধ্যমে বাস্তব রূপ নিতে যাচ্ছে। ভোট দেওয়ার পর ফলাফল নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ভোটকেন্দ্র পাহারা দিয়ে বিজয় মিছিল নিয়ে ঘরে ফেরার আহ্বান জানান তিনি।
হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “আমরা জুলাই অভ্যুত্থানের যোদ্ধা। কোনো ভাড়াটিয়া বাহিনীর লালচক্ষুকে ভয় পাই না। যারা পাথরকোয়ারি বন্ধ করে মানুষের জীবিকা কেড়ে নিয়েছে, তাদের অবসান ঘটাতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, নির্বাচিত হলে কোম্পানীগঞ্জে একটি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন, আধুনিক হাসপাতাল নির্মাণ, স্কুল-কলেজ, মসজিদ ও মাদ্রাসার উন্নয়ন এবং একটি শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলা হবে। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের ন্যায্য অধিকার হিসেবে গ্যাস সংযোগ নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
২০২২ সালের বন্যার সময়ের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে জয়নাল আবেদীন বলেন, দুর্দিনে তিনি এলাকাবাসীর পাশে ছিলেন এবং ভবিষ্যতেও পাশে থাকবেন। তিনি অঙ্গীকার করেন, নিজে দুর্নীতিতে জড়াবেন না এবং কাউকেও দুর্নীতি করতে দেবেন না।
উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা ফয়জুর রহমানের সভাপতিত্বে ও মাস্টার শফিকুল ইসলামের পরিচালনায় জনসভায় বক্তব্য রাখেন জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা মাশুক আহমদ, খেলাফত মজলিস কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা সভাপতি হাফিজ মাসুম আহমদ, সাধারণ সম্পাদক মাওলানা হাবিবুর রহমান, এনসিপি সিলেট জেলার যুগ্ম সদস্য সচিব মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াদুদ শিপনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
সভায় স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। জনসভা শেষে প্রধান অতিথি আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দিয়ে বিজয় নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
দিনের আলো ফুরিয়ে গেলেও মাঠজুড়ে মানুষের চোখে ছিল পরিবর্তনের প্রত্যাশা আর দীর্ঘদিনের বঞ্চনার অবসান দেখার দৃঢ় সংকল্প।