বিতর্কিত পদোন্নতির বিষয়ে অবগত নন শিক্ষামন্ত্রী বিষয়টি পর্যালোচনার আশ্বাস
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের বিরাশি জন কর্মচারীকে সহকারী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার পদে পদোন্নতি প্রদানের চাঞ্চল্যকর তথ্যটি নিজের অজানা বলে দাবি করেছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। ছাব্বিশ ফেব্রুয়ারি দুপুরে সচিবালয়ে জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণা পরবর্তী এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এই মন্তব্য করেন। এই ধরনের পদোন্নতির ফলে শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত হবে কি না এমন প্রশ্নের প্রেক্ষিতে তিনি পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখার প্রতিশ্রুতি দেন।
সংবাদ সম্মেলনে এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন যে কম্পিউটার অপারেটর বা প্রধান সহকারীর মতো পদ থেকে প্রশাসনিক পদে পদোন্নতি দিলে শিক্ষার মান বজায় থাকবে কি না। এর উত্তরে বিস্ময় প্রকাশ করে শিক্ষামন্ত্রী জানতে চান যে এই ধরনের সিদ্ধান্ত কোন দপ্তর থেকে নেওয়া হয়েছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন যে মাধ্যমিক শিক্ষা বিভাগে এমন কোনো পরিবর্তনের তথ্য তাঁর দপ্তরে এখনো পৌঁছায়নি। সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে মন্ত্রণালয়ের জারি করা সাম্প্রতিক প্রজ্ঞাপনটির কথা উল্লেখ করা হলে তিনি জানান যে বিষয়টি হয়তো প্রশাসনের অগোচরে ঘটেছে।
শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন যে যেহেতু গণমাধ্যমের পক্ষ থেকে বিষয়টি নজরে আনা হয়েছে তাই মন্ত্রণালয় এটি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করবে। কেন এবং কোন প্রক্রিয়ায় এই পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে তা খতিয়ে দেখার পাশাপাশি পুরো বিষয়টি পুনরায় পর্যালোচনা বা রিভিউ করা হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন। তিনি মনে করেন যে প্রশাসনিক যে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে যথাযথ প্রক্রিয়া এবং যোগ্যতার বিষয়টি নিশ্চিত করা আবশ্যক।
গত তেইশ ফেব্রুয়ারি শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে সাঁটলিপিকার কাম কম্পিউটার অপারেটর প্রধান সহকারী উচ্চমান সহকারী ও হিসাবরক্ষক পদে কর্মরত বিরাশি জন কর্মীকে দশম গ্রেডে সহকারী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার হিসেবে পদোন্নতি দেওয়া হয়। এই সিদ্ধান্তটি জানাজানি হওয়ার পর থেকেই শিক্ষা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মহলে ব্যাপক বিতর্ক ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
সঠিক মেধা ও যোগ্যতার মূল্যায়নই একটি জাতির মেরুদণ্ডকে শক্তিশালী করতে পারে। যখন কোনো প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত জনমনে প্রশ্নের উদ্রেক করে তখন স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাই হয় সময়ের দাবি। শিক্ষামন্ত্রীর এই পর্যালোচনার আশ্বাস যেন কেবল আমলাতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সীমাবদ্ধ না থেকে প্রকৃত শিক্ষার মানোন্নয়নে সহায়ক হয় এটিই এখন কাম্য। মেধার অবমূল্যায়ন রোধ করে একটি স্বচ্ছ প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তোলাই হোক আমাদের আগামীর অঙ্গীকার যাতে শিক্ষার আলো প্রতিটি শিক্ষার্থীর কাছে নির্ভুলভাবে পৌঁছাতে পারে।