প্রাথমিক শিক্ষা উপবৃত্তির নতুন নির্দেশিকা প্রকাশ: কোন শ্রেণিতে কত টাকা জানাল অধিদপ্তর
নিজস্ব প্রতিবেদক: সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পিটিআই-সংলগ্ন পরীক্ষণ বিদ্যালয় এবং শিশু কল্যাণ ট্রাস্ট পরিচালিত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য উপবৃত্তি কার্যক্রম বাস্তবায়নের বিস্তারিত নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এই নির্দেশনায় উপবৃত্তির পরিমাণ, যোগ্যতার শর্ত এবং বিতরণের নিয়মাবলি সুনির্দিষ্ট করা হয়েছে। সরকারের ‘জাতীয় সামাজিক নিরাপত্তা কৌশল’ অনুযায়ী এই কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণির একজন শিক্ষার্থী মাসিক ৭৫ টাকা হারে উপবৃত্তি পাবে। প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত কোনো পরিবারের একজন শিক্ষার্থী পড়লে মাসিক ১৫০ টাকা এবং দুজন পড়লে ৩০০ টাকা প্রদান করা হবে। যেসব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণি চালু রয়েছে, সেখানে একজন শিক্ষার্থীর জন্য মাসিক ২০০ টাকা এবং দুজন শিক্ষার্থীর জন্য ৪০০ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। তবে একটি পরিবার থেকে সর্বোচ্চ দুজন শিক্ষার্থী এই সুবিধার আওতায় আসবে। উপবৃত্তির এই অর্থ দিয়ে শিক্ষার্থীরা স্কুল ড্রেস, জুতা, ব্যাগ, ছাতা ও টিফিন বক্সসহ প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ ক্রয় করতে পারবে।
উপবৃত্তি পাওয়ার ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির বিষয়ে কঠোর শর্তারোপ করা হয়েছে। প্রাক-প্রাথমিক থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত প্রতিটি শিক্ষার্থীকে মাসে অন্তত ৮০ শতাংশ দিন বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকতে হবে। এছাড়া দ্বিতীয় থেকে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে পূর্ববর্তী শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষায় প্রতি বিষয়ে ন্যূনতম ৪০ শতাংশ নম্বর পেতে হবে। তবে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য এই পাসের হার ৩৩ শতাংশ পর্যন্ত শিথিলযোগ্য। অনলাইন জন্মনিবন্ধন সনদ থাকা এবং অভিভাবকের জাতীয় পরিচয়পত্র দিয়ে নিবন্ধিত সক্রিয় মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট থাকাও বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
শিক্ষার আলো প্রতিটি ঘরে পৌঁছে দিতে সরকারের এই উদ্যোগ তৃণমূল পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। উপবৃত্তির এই সামান্য অর্থ হয়তো অনেকের কাছে নগণ্য, কিন্তু একটি সুবিধাবঞ্চিত শিশুর জন্য এটি সুন্দর আগামীর স্বপ্ন দেখার সাহস জোগায়। খাতা-কলমের অভাবে যেন কোনো মেধাবী প্রাণ অকালে ঝরে না যায়, সেই লক্ষ্যেই রাষ্ট্রের এই বিনিয়োগ। প্রতিটি শিশুর শৈশব কাটুক বিদ্যালয়ের আঙিনায় আর সুশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে তারা গড়ে তুলুক এক উন্নত বাংলাদেশ—এটাই হোক আমাদের প্রত্যাশা।