মাদক ও মোবাইল আসক্তি রুখতে চিকনাগুলে অত্যাধুনিক ইনডোর স্টেডিয়ামের যাত্রা শুরু
সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার উত্তর জনপদে ক্রীড়াঙ্গনের নবদিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। তরুণ প্রজন্মের শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং মানসিক প্রশান্তির লক্ষে আধুনিক সুযোগ সুবিধা সম্পন্ন ইনডোর স্টেডিয়াম চিকনাগুল স্পোর্টস জোনের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। গত রবিবার (৫ এপ্রিল) সন্ধ্যায় চিকনাগুল আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় এক বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে এই ক্রীড়া কমপ্লেক্সটির শুভ উদ্বোধন করা হয়।
স্থানীয় ৪নং খাদিমপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও বিশিষ্ট রাজনীতিবীদ বদরুল ইসলাম আজাদ প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই ক্রীড়া প্রকল্পের উদ্বোধন ঘোষণা করেন। সমাজসেবী জাহাঙ্গীর আলমের সাবলীল সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অত্র ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান চৌধুরী। প্রধান অতিথির বক্তব্যে বদরুল ইসলাম আজাদ বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন যে ডিজিটাল আসক্তি এবং মাদকের নীল দংশন থেকে যুবসমাজকে রক্ষা করতে মাঠের খেলার বিকল্প নেই। তিনি বিশ্বাস করেন এই ইনডোর স্টেডিয়ামটি দিন এবং রাত চব্বিশ ঘণ্টা তরুণদের সুস্থ বিনোদনের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে কাজ করবে। একই সুরে কামরুজ্জামান চৌধুরী তার বক্তব্যে বলেন যে কেবল পাঠ্যবইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে শরীরচর্চার মাধ্যমে মেধাবী ও স্বাস্থ্যবান নাগরিক গড়া সম্ভব। এই স্পোর্টস জোন থেকে আগামীর দক্ষ খেলোয়াড় বেরিয়ে আসবে যারা সিলেটের নাম উজ্জ্বল করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ৪নং খাদিমপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ফয়জুল ইসলাম ফয়েজ এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দের মধ্যে নিজাম উদ্দিন, তাজেল আহমদ, আব্দুল মুসাব্বির, জুবের আহমদ, নজরুল ইসলাম ও নুরুল ইসলাম রুমন। এছাড়া ব্যবসায়িক সমাজের প্রতিনিধি হিসেবে জুনাব আলী এবং সুলেমান আহমদ চৌধুরীসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত থেকে এই উদ্যোগকে স্বাগত জানান। অনুষ্ঠান শেষে দর্শকদের আনন্দ দিতে এক প্রীতি ফুটবল ম্যাচের আয়োজন করা হয় যেখানে সিলেট জেলা ফুটবল দল ও জেলা পুলিশ ফুটবল দল একে অপরের মুখোমুখি হয়ে নৈপুণ্য প্রদর্শন করে। খেলা শেষে স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমীরা অত্র এলাকায় একটি পূর্ণাঙ্গ খেলার মাঠের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করলে অতিথিরা বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনার আশ্বাস প্রদান করেন। উল্লেখ্য যে এই প্রতিষ্ঠানটির সুষ্ঠু পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছেন বদরুল ইসলাম আজাদ, জাহাঙ্গীর আলম, জুবের আহমদ ও জাহেদ আহমদ।
আসলে খেলার মাঠ কেবল ঘাস আর মাটির টুকরো নয় বরং এটি একটি স্বপ্ন তৈরির কারখানা। যে বয়সে তরুণদের লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়ার ভয় থাকে সেই বয়সে তাদের হাতে ফুটবল কিংবা ক্রিকেট ব্যাট তুলে দেওয়া মানে একটি সুন্দর আগামীর বীজ বপন করা। চিকনাগুল স্পোর্টস জোন হয়ে উঠুক সেই ভরসার জায়গা যেখানে প্রতিটি ঘামবিন্দু মাদককে না বলার শক্তি যোগাবে এবং প্রতিটি জয়ধ্বনি আকাশ ছোঁয়ার সাহস দেবে। এই মাঠ থেকে কেবল গোল বা রান আসবে না বরং এখান থেকে জন্ম নেবে একেকটি সুশৃঙ্খল প্রাণ যারা দেশ ও দশের গর্ব হয়ে বেঁচে থাকবে।