আন্তর্জাতিক কাবাডিতে বাংলাদেশের জয়জয়কার: হারানো গৌরব পুনরুদ্ধারে নতুন দিগন্ত
বাংলার চিরচেনা ও ঐতিহ্যবাহী খেলা কাবাডি দীর্ঘ এক দশকের খরা কাটিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আবারও সাফল্যের সোনালী সোপানে পা রেখেছে। একসময় নিয়মিত পদক জয়ী দল হিসেবে পরিচিত বাংলাদেশ মাঝপথে তার ধারাবাহিকতা হারিয়ে ফেললেও সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স বলছে ভিন্ন কথা। ২০০৬ সালের পর পুরুষ দল এবং ২০১৪ সালের পর নারী দল এশিয়ান আসরে পদকহীন থাকলেও ২০২৫ সালে সেই অচলাবস্থা ভেঙে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। বর্তমান ফেডারেশন কমিটির বলিষ্ঠ নেতৃত্বে গত এক বছরে মোট ছয়টি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে পাঁচটিতেই গৌরবময় সাফল্য অর্জন করেছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা যা বিশ্ব কাবাডিতে বাংলাদেশের হারানো মুকুট পুনরুদ্ধারের এক শক্তিশালী ইঙ্গিত।
২০২৫ সালের সাফল্যের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের আধিপত্য এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি সুসংহত। বছরের শুরুতেই নেপালের বিপক্ষে ৪-১ ব্যবধানে টেস্ট সিরিজ জয় করে শুভসূচনা করে বাংলাদেশ। এরপর নারী এশিয়ান কাবাডি চ্যাম্পিয়নশিপে ব্রোঞ্জ পদক অর্জন এবং যুব এশিয়ান গেমসে বালক ও বালিকা উভয় বিভাগে জোড়া ব্রোঞ্জ জয় দেশের তরুণ প্রজন্মের সামর্থ্যকে বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরেছে। সাফল্যের এই মুকুটে শেষ পালকটি যুক্ত হয়েছে নারী বিশ্বকাপে ব্রোঞ্জ পদক জয়ের মাধ্যমে যা আন্তর্জাতিক কাবাডির মানচিত্রে বাংলাদেশকে পুনরায় এক অপরাজেয় শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
বাংলাদেশ কাবাডি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক এস এম নেওয়াজ সোহাগ এই অসামান্য অর্জনে আশাবাদ ব্যক্ত করে জানান যে বর্তমান সাফল্য কেবল এক উজ্জ্বল ভবিষ্যতের সূচনা মাত্র। তিনি বলেন যে অদূর ভবিষ্যতে বিশ্ব কাবাডির সকল রেকর্ড ভেঙে বাংলাদেশকে একটি বৈশ্বিক পরাশক্তি হিসেবে গড়ে তোলাই তাদের মূল লক্ষ্য। এই লক্ষ্য অর্জনে গোপালগঞ্জ মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্সে একটি অত্যাধুনিক কাবাডি ইনস্টিটিউট নির্মাণের মহাপরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে যার সফল বাস্তবায়নে সরকারি ও বেসরকারি উভয় খাতের জোরালো সহযোগিতা প্রয়োজন। সুপরিকল্পিত দীর্ঘমেয়াদী প্রশিক্ষণ ও আধুনিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে কাবাডির মাধ্যমে বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনে বাংলাদেশের মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর স্বপ্ন এখন কেবল সময়ের ব্যাপার।
মাঠের ঘাম আর অদম্য সাহসের সমন্বয়ে যখন জাতীয় খেলা কাবাডি তার হৃত গৌরব ফিরে পায় তখন তা প্রতিটি বাঙালির হৃদয়ে গর্বের হিল্লোল বয়ে আনে। জয়-পরাজয়ের ঊর্ধ্বে উঠে মাটির এই খেলাটি এখন আমাদের আন্তর্জাতিক পরিচয়ের এক অনন্য ধারক হয়ে উঠেছে। আমরা এমন এক আগামীর প্রত্যাশা করি যেখানে প্রতিটি টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের পতাকাই সবার শীর্ষে উড়বে এবং প্রতিটি খেলোয়াড় তার সামর্থ্যের সর্বোচ্চ প্রতিফলন ঘটাতে সক্ষম হবে। অন্ধকারের সকল অবহেলা ও স্থবিরতা মুছে গিয়ে স্পোর্টস কালচারের আলোয় আলোকিত হোক প্রতিটি জেলা ও উপজেলা এবং প্রতিটি উদীয়মান খেলোয়াড় ফিরে পাক তার যোগ্য সম্মান ও সঠিক দিশা। সাহসের সাথে চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেই আমাদের এগিয়ে যেতে হবে বিশ্ব কাবাডির সিংহাসন জয়ের লক্ষ্যে।