জানুয়ারিতে রেমিট্যান্স এসেছে ৩১৭ কোটি ডলার, সাত ব্যাংকে নেই এক ডলারও
সদ্যবিদায়ী জানুয়ারি মাসে দেশে প্রবাসী আয় এসেছে ৩১৭ কোটি ৯ লাখ ৪০ হাজার মার্কিন ডলার। এটি দেশের ইতিহাসে কোনো এক মাসে তৃতীয় সর্বোচ্চ এবং চলতি অর্থবছরে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স হিসেবে উল্লেখ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে এ মাসজুড়ে দেশের সাতটি ব্যাংকের মাধ্যমে কোনো রেমিট্যান্স আসেনি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জানুয়ারি মাসে রেমিট্যান্স না আসা ব্যাংকের সংখ্যা সাতটি। এর মধ্যে রয়েছে একটি বিশেষায়িত ব্যাংক, দুটি বেসরকারি ব্যাংক এবং চারটি বিদেশি ব্যাংক।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশেষায়িত ব্যাংক খাতে রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক বা রাকাবের মাধ্যমে জানুয়ারিতে কোনো প্রবাসী আয় আসেনি। পাশাপাশি বেসরকারি খাতে পদ্মা ব্যাংক পিএলসি এবং আইসিবি ইসলামী ব্যাংকেও রেমিট্যান্স শূন্য ছিল।
এ ছাড়া বিদেশি খাতের চার ব্যাংক আল ফারাহ, হাবিব ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান এবং স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার মাধ্যমেও জানুয়ারি মাসে কোনো রেমিট্যান্স আসেনি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি মাসে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৪৬ কোটি ৯৬ লাখ মার্কিন ডলার। বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৪০ কোটি ১০ লাখ ৬০ হাজার ডলার। বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে সর্বোচ্চ ২২৯ কোটি ৪৩ লাখ ৪০ হাজার ডলার এবং বিদেশি খাতের ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৫৯ লাখ ৪০ হাজার ডলার রেমিট্যান্স।
এর আগে গত ডিসেম্বরে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ৩২২ কোটি ৬৭ লাখ মার্কিন ডলার, যা দেশের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ এবং চলতি অর্থবছরের মধ্যে সর্বোচ্চ মাসিক প্রবাসী আয় ছিল। গত নভেম্বরে এসেছিল ২৮৮ কোটি ৯৫ লাখ ২০ হাজার ডলার।
এ ছাড়া গত অক্টোবর ও সেপ্টেম্বরে দেশে আসে যথাক্রমে ২৫৬ কোটি ৩৪ লাখ ৮০ হাজার এবং ২৬৮ কোটি ৫৮ লাখ ৮০ হাজার মার্কিন ডলার। গত আগস্ট ও জুলাইয়ে আসে যথাক্রমে ২৪২ কোটি ১৮ লাখ ৯০ হাজার এবং ২৪৭ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরজুড়ে দেশে প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন ৩০ দশমিক ৩২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশে কোনো নির্দিষ্ট অর্থবছরে সর্বোচ্চ প্রবাসী আয়ের রেকর্ড হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
রেমিট্যান্স প্রবাহ দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় মাসভিত্তিক এই ওঠানামা নিয়ে ব্যাংকিং খাত ও অর্থনীতিবিদদের নজর রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।